রবিবার, ২১ Jun ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ন
চট্টগ্রামে শিল্পবর্জ্য দূষণ প্রতিরোধ এবং কারখানা মনিটর করার জন্য আইপি ক্যামেরা (ইন্টারনেট প্রটোকল ক্যামেরা) স্থাপনে ২০১৯ সালে নির্দেশনা দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। তবে গত চার বছরেও মাত্র ৫০টি কারখানায় আইপি ক্যামেরা স্থাপিত হয়েছে। এখনো শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেনি আইপি ক্যামেরা। তবে ক্যামেরা স্থাপন না করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে এবার কঠোর হচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তর। কোনো কারখানা তাদের নির্দেশনা না মানলে নবায়ন ছাড়পত্র দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে সংস্থাটি । অবশ্য সরকারি নির্দেশনা মানতে আইপি ক্যামেরা স্থাপনে আরো সময় চান উদ্যোক্তারা।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের মহানগর বাদে জেলা পর্যায়ের স্থাপনকৃত কারখানাগুলোয় আইপি ক্যামেরা স্থাপন করতে পেরেছে মাত্র ১০টি প্রতিষ্ঠান। জেলায় কারখানার সংখ্যা আছে দেড় শতাধিক। যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক, ওইসব প্রতিষ্ঠানে আইপি ক্যামেরা স্থাপন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, আমাদের কাছে গোপনীয়ভাবে খবর আসে শিল্প-কারখানাগুলো নিয়মিতভাবে পরিচালনা করার সময়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিশোধনে ইটিপি বন্ধ রাখেন। কিন্তু আমরা অভিযানে গেলে বেশির ভাগ সময়ে তারা আগেভাগে খবর পেয়ে ইটিপি চালু রাখেন। অনেককে আমরা হাতেনাতে ধরতে পারি এবং তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা বা মামলাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। তবে এখন প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের একটি নির্দেশনা আসায় আমাদের কাজ অনেকটা কমে গেছে। এখন যেসব কারখানায় ইটিপি আছে, সেখানে তারা উন্নত প্রযুক্তির আইপি ক্যামেরা স্থাপন করবে। সেই আইপি ক্যামেরা ইন্টারনেটের সার্ভারের সঙ্গে আমাদের পরিবেশ অধিদপ্তরে কানেক্ট থাকবে। তারা সেই আইপি ক্যামেরাগুলোর আইডি ও পাসওয়ার্ড আমাদের কাছে জমা দেবে। সেখান থেকে আমরা আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে কারখানার কার্যক্রম নিয়মিত মনিটর করব।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (মেট্রো) হিল্লোল বিশ্বাস বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোয় আইপি ক্যামেরা দ্রুত লাগানোর জন্য নোটিস বা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যারা এ নির্দেশনা মানবে না তাদের কোনো ছাড়পত্র নবায়ন সনদ দেবে না পরিবেশ অধিদপ্তর। তবে যারা আমাদের নির্দেশনা অনুযায়ী আইপি ক্যামেরা লাগানোর জন্য আমাদের পরামর্শ নিচ্ছেন তাদের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর সব ধরনের সহায়তা করছে।